চুলের যত্নে জবা ফুলের ব্যবহার
চুলের যত্নে আদিকাল থেকেই প্রাকৃতিক উপাদানের কদর অনেক। আমাদের এই ব্লগের উদ্দেশ্যই হলো প্রাকৃতিক উপাদান নির্ভর চুলের যত্ন নিয়ে আলোচনা করা। আমাদের আগের ব্লগ পোস্টগুলিতে আমরা দেখিয়েছি মেহেদি এবং মেথির ব্যবহার ও কার্যকারীতা কীভাবে চুলকে মজবুত, উজ্জ্বল, মসৃণ ও ঘন করে। আজকের পোস্টে জবা ফুলের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করব।
চুলের যত্নে জবা ফুলের জুড়ি নেই। জবা ফুল আমাদের হেয়ার ফলিকলগুলিকে শক্তিশালী করে। জবা ফুলে থাকা ভিটামিন 'সি', ভিটামিন 'এ' এবংঅ্যামিনো এসিড চুল পড়া বন্ধ করে ও চুল ঝলমলে করে তোলে। এছাড়াও জবা ফুলের মধ্যে থাকে আলফা হাইড্রক্সিল এসিড যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে চুলকে কোমল করে তোলে।
জবা ফুলের ১২টি উল্লেখযোগ্য উপকারিতা নিম্নরূপ
জবা ফুলের উপকারিতা
- জবা চুলকে মজবুত করে
- চুল দ্রুত বৃদ্ধি করে
- খুশকি দূর করে
- নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে
- চুল ঘন করে
- চুল কালো করে
- ময়েশ্চারাইজার হিসেবে
- চুলকে কন্ডিশনিং করে
- স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তোলে
- চুল মসৃণ ও রেশমি করে তোলে
- চুলের রুক্ষতা ও শুষ্কতা দূর করে
- চুলে পুষ্টি যোগায়
চুলের যত্নে জবা ফুলের ব্যবহার
চুল মজবুত করতে
৪-৫ টি জবা ফুলের পাতা ও ১টি জবা ফুল নিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার প্যাকটি চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে নিয়ে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্যবহারে চুলের গোড়া মজবুত হয়।
চুল দ্রত বৃদ্ধি করতে
৮-৯ টি জবা ফুল ও পাতা নিয়ে ভালো করে ধুয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর ১ টি পাত্রে ১ কাপ নারকেল তেল নিয়ে এর সাথে জবা ফুলের তৈরি পেস্ট দিয়ে সিদ্ধ করে নিন। এবার এটিকে ঠাণ্ডা করে নিন। এটি চুল ও মাথার তালুতে ভালো করে ম্যাসাজ করে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। তবে সারারাত রাখলেই বেশি ভালো হয়।
এই তেলটি কাঁচের পাত্রে সংরক্ষণ করে নিয়মিত ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
খুশকি দূর করতে
৮-৯ টি জবা পাতা ও পরিমাণমতো মেহেদি পাতা একসাথে নিয়ে ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর পেস্টটির সাথে অর্ধেকটা লেবুর রস দিয়ে মিশিয়ে নিন। প্যাকটি চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ৩০-৪৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।
নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে
১টি জবা ফুল ও ৩-৪ টি জবা ফুলের পাতা নিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর প্যাকটি চুলে লাগিয়ে নিয়ে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
চুল ঘন করতে
৩ টি জবা ফুল, ২ টেবিল চামচ জবা ফুলের পাতার গুঁড়ো, ৩ টেবিল চামচ আমলকির গুঁড়ো এবং পরিমাণমতো পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি চুলে ও গোড়ায় লাগিয়ে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করুন।
চুল কালো করতে
কয়েকটা জবা ফুল ও তার পাতা নিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণের সাথে ২ চামচ নারকেল তেল ও পরিমাণ মতো পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই প্যাকটি চুলে ৩০ মিনিট শাওয়ার ক্যাপ পরে অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কুচকুচে কালো চুল পেতে সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করুন।
চুলকে কন্ডিশনিং করতে
৮-১০ টি জবা ফুল ও পরিমাণমতো পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার পেস্টটি চুল ও মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে নিন। এরপর ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।
চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করতে
৩ টেবিল চামচ আমলকির গুঁড়ো অথবা রস, ৩ টেবিল চামচ জবা পাতার গুঁড়ো ও পরিমাণমতো পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। প্যাকটি চুলে লাগিয়ে ৩০-৪০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্যাকটি মাসে অন্তত ২-৩ বার ব্যবহার করলে আপনার চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠবে।
ময়েশ্চারাইজার হিসেবে
৩-৪ টি জবা ফুল, ১ মুঠো জবা ফুলের পাতা এবং ১ মুঠো মেহেদি পাতা নিয়ে ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। এর সাথে অর্ধেকটা লেবুর রস দিয়ে মিশিয়ে নিন। এই প্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
চুলের যত্ন করতে আমরা অনেকেই অনেক পন্থা অবলম্বন করি। প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপাদানে যে যেটাতেই অভ্যস্ত হয়ে থাকুন না কেন জবা ফুলের এই প্যাকগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন খুব সহজেই। আশা করি আমাদের দেয়া পরীক্ষিত ফর্মুলা প্রয়োগে আপনার চুল আরও সুন্দর হয়ে ওঠবে। আমাদের সামনের ব্লগ পোস্টে আপনাদের স্বাগতম। আসছি আমলকির ব্যবহার ও উপকারিতা নিয়ে। যেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের সাথে। কমেন্ট অথবা ভিজিট করতে পারেন আমাদের পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।
©Sanzu-Tanzu
এই ব্লগ, ব্লগ পোস্ট বা ব্লগের কোন অংশ কপি, অনুলিপি অথবা পুনঃব্যবহার নিষিদ্ধ।
Comments
Post a Comment