চুলের যত্নে মেহেদির উপকারিতা ও ব্যবহার পদ্ধতি
আদিকাল থেকেই মানুষ সৌন্দর্য পিপাসু। মানুষ চায় তার সৌন্দর্য হউক আকর্ষনীয় ও অন্যের থেকে ভিন্নতর বা ব্যতিক্রম। আর এই সৌন্দর্য পিপাসা নারীদের মধ্যেই বেশি। চুল নারীর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। এই চুলের যত্নে নারীরা যুগ যুগ ধরেই প্রাকৃতিক উপাদানের আশ্রয় গ্রহণ করেছে। মেহেদি পাতা চুলের কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই অনেক রকম উপকার সাধন করে। মেহেদি পাতা পাওয়া যায় খুব সহজেই এবং এর প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতিও খুব সহজ যা ইতিমধ্যে সবার জানা। তাই চুলের যত্নে সেই প্রাচীনকাল থেকেই মেহেদি পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। আসুন জেনে নেই চুলের যত্নে মেহেদি পাতার উপকারিতা ও এর ব্যবহার পদ্ধতি-
- চুল পড়া বন্ধ করে
- চুল ঘন হয় ও বৃদ্ধি করে
- চুলের গোড়া মজবুত করে
- রুক্ষতা দূর করে ও চুলের আগা ফাটা রোধ করে
- খুশকি দূর করে
- মাথার ত্বক ঠাণ্ডা রাখে
- চুল রঙ করে বা চুলের সাদাটে ভাব দূর করে
- চুলের গোড়ায় পুষ্টি যোগায় ও প্রাকৃতিকভাবে চুলকে সোজা করে তোলে
- চুল ভেঙ্গে যাওয়া রোধ করে
- চুলের গ্রন্থিতে ব্লাড সার্কুলেশন (রক্ত সঞ্চালন ) বাড়িয়ে তোলে
চুল পড়া রোধে
মেহেদি পাতা পিষে অথবা ব্লেন্ড করে সাথে আধা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। সপ্তাহে একবার মাথার ত্বকে ও চুলে লাগিয়ে ৩০-৫০ মিনিট রেখে দিন। শ্যাম্পু ব্যবহার না করে শুধু পানিতে চুল ধুয়ে নিন। একদিন পর শ্যাম্পু করুন। এতে চুল পরা কমার সাথে সাথে চুল সতেজ হবে ও মাথা ঠাণ্ডাও থাকবে।
চুল ঘন ও বৃদ্ধি করতে
২৫০মিলি তিলের তেল গরম করে নিয়ে তেলের সাথে পাঁচ কাপ মেহেদি গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এরপর ৫-৬ মিনিট গরম করে নিন।সপ্তাহে ২-৩ বার এই প্যাকটি ব্যবহার করুন। ১ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। চুল ঘন করার জন্য এই প্যাকটি খুবই কার্যকরী ও ফলদায়ক।
** (মেহেদি গুঁড়ো বাজারে প্যাকেট আকারে কিনতে পাওয়া যায়। ঘরোয়া পদ্ধতিতেও মেহেদি পাতা শুকিয়ে ব্লেন্ড করে মেহেদি গুঁড়ো তৈরি করা যায়।)

মেহেদি গুঁড়ো
চুলের গোড়া মজবুত করতে
মেহেদির সাথে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল , মেথি গুঁড়ো এবং ২ টেবিল চামচ রিঠা মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এবার প্যাকটি চুলে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করুন। এটি ব্যবহারে চুলের গোঁড়া মজবুত করে।
চুলের আগা ফাটা ও রুক্ষতা দূর করতে
১ কাপ মেহেদি বাটার সাথে ২-৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল , ১ টেবিল চামচ ভিটামিন ই ক্যাপ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি পুরো লাগিয়ে নিয়ে ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
খুশকি দূর করতে
৪ টেবিল চামচ মেহেদি গুঁড়োর সাথে একটি পুরো লেবুর রস এবং ২ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর চুলে মেখে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

মেহেদি লাগানো চুল
চুল ঝলমলে ও রেশমি করতে
নারকেল তেল বা সরিষার তেল অথবা অন্য যেকোনো তেলের সাথে আধা চামচ মেথি গরম করুন। এরপর তেল্টিকে ঠাণ্ডা করে মেহেদির সাথে মিশিয়ে সপ্তাহে ১-২ বার চুলে লাগিয়ে নিন। এতে চুল হয়ে ওঠবে রেশমি ও ঝলমলে।
চুল রঙ করতে
১ টেবিল চামচ কফি পাউডার পানিতে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন। অন্য একটি পাত্রে ৫ টেবিল চামচ মেহেদি গুঁড়ো নিয়ে গরম কফি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। পুরো চুলে ভালোভাবে প্যাকটি লাগিয়ে নিয়ে ৩ ঘণ্টা পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

মেহেদি ব্যবহারের পর চুলের লালচে ভাব
চুলের গোড়ায় পুষ্টি যোগাতে ও প্রাকৃতিকভাবে সোজা করতে
নারকেলের দুধের সাথে ২ টেবিল চামচ মেহেদি বাটা বা গুঁড়ো মিক্স করে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি পুরো মাথায় ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
** (অর্ধেকটা কোড়ানো নারকেল ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর একটি পরিষ্কার সুতি কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে নারকেলের দুধ।)
.jpg)

মেহেদি বাটা
চুল এখন নারীর সৌন্দর্যের কেন্দ্রে। তবে চুল লম্বা করে রাখার হিড়িকটা এখন আর নাই।
চুল কিভাবে শক্ত, মসৃণ ও ঝলমলে রাখতে হয় তার দিকে এখন আমাদের গভীর দৃষ্টিপাত।
চুলের প্রাকৃতিক যত্নের উপাদান হিসেবে মেহেদি পাতার ব্যবহার অনেক বেড়েছে। মেহেদির ব্যবহার একটা সময় শুধুমাত্র হাতের তালুতেই হত আর সেটা শুধুই নববধূর জন্য বরাদ্দ থেকে থাকলেও এখন চুলে মেহেদির ব্যবহার হরহামেশাই দেখি আমরা। এর ফলও চমকপ্রদ এবং অত্যন্ত কার্যকরী।
সামনের দিনগুলিতে অন্য প্রাকৃতিক উপাদান নিয়ে আসছে আমাদের ব্লগ পোষ্ট। সেখানে পাবেন আরও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপদান যেমন ডিম, জবা, মেথি ইত্যাদির ব্যবহার ও এগুলোর উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত ফিরিস্তি। এসবের ব্যবহারে আপনার চুল হবে প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর।
আমাদের পরবর্তী ব্লগে থাকছে চুলের যত্নে মেথির ব্যবহারের বিস্তারিত। মেথি ব্যবহারে চমকে যাবে আপনার চুল এবং অবাক হবেন আপনি।
©Sanzu-Tanzu
এই ব্লগ, ব্লগ পোস্ট বা ব্লগের কোন অংশ কপি, অনুলিপি অথবা পুনঃব্যবহার নিষিদ্ধ।
Comments
Post a Comment