চুলের যত্নে আমলকির ব্যবহার ও উপকারিতা

 চুলের যত্নে আমাদের ব্লগ Sanzu-Tanzu Hair Care Tips আশা করি আপনাদের চুল সুন্দর ও প্রাকৃতিকভাবে ভালো রাখতে অবদান রাখছে। আজকের টপিক আমলকি। আগের ব্লগগুলো জবা, মেথি ইত্যাদির মতোই আমলকিও একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা চুলের যত্নে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীনভাবে কাজ করে। 


আমলকিতে থাকে ফাইটো-নিউট্রিয়েন্ট, খনিজ, প্রচুর পরিমান ভিটামিন ''সি'' ও মিনারেলস; যা মাথার ত্বকের সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে।  আসুন জেনে নিই চুলের যত্নে আমলকির উপকারিতা ও ব্যবহার পদ্ধতি।

চুলের যত্নে আমলকির উপকারিতা
  • চুল পড়া বন্ধ করে
  • চুল বৃদ্ধি করে
  • চুল কালো করে
  • চুলের গোঁড়া মজবুত করে
  • চুল মসৃণ ও উজ্জ্বল করে
  • খুশকি দূর করে
  • রুক্ষ ও শুষ্ক চুলে পুষ্টি যোগায়
  • কোলাজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে
  • চুলকে কন্ডিশনিং করে
  • চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে
  • চুলের আগাফাটা রোধ করে
  • উকুনের সমস্যা দূর করে
  • চুলের রঙ প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করে

চুলের যত্নে আমলকির ব্যবহার

চুল পড়া বন্ধ করতে
           পরিমাণমতো আমলকি নিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ব্লেন্ড করে রস তৈরি করুন। অর্ধেকটা লেবুর রস নিন এবার আমলকি ও লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ৫মিনিট ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজ করার পর ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
                                                                    
   
আমলকি

             
                      
                                             
চুল বৃদ্ধি করতে
            ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল নিয়ে হালকা গরম করুন। তেলটি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এর সাথে ১ টেবিল চামচ আমলকির রস মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ১ দিন এটি ব্যবহার করতে পারেন। 

চুল কালো করতে 
            ৫-৬টি আমলকি নিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে কেটে নিন। কেটে নেওয়া আমলকিগুলো পরিমাণমতো পানিতে দিয়ে ৩০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর ঠাণ্ডা করে ভালোভাবে ছেঁকে নিয়ে আমলকির টুকরোগুলো আলাদা করে ফেলুন। এবার ছেঁকে নেওয়া পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুলকে কালো করতে এই পদ্ধতিটি বেশ কার্যকরী।

চুলের গোঁড়া মজবুত করতে
             ১ টেবিল চামচ আমলকির গুঁড়ো, ১টি ডিমের সাদা অংশ, ২-৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল ও ১ টেবিল চামচ লেবুর রস নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। এরপর মিশ্রণটি চুলে ভালো করে লাগিয়ে নিয়ে ৩০-৪৫ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলের গোঁড়া মজবুত করতে চাইলে সপ্তাহে অন্তত ১বার এটি ব্যবহার করুন।


আমলকির গুঁড়ো

                                              

চুল মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে            
              ২ টেবিল চামচ আমলকি গুঁড়োর সাথে পরিমাণমতো পানি দিয়ে কুসুম গরম করে নিন। ১ ঘণ্টা রেখে এই মিশ্রণটি ঠাণ্ডা করে নিন। এবার এই মিশ্রণটি পুরো চুলে লাগিয়ে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

খুশকি দূর করতে
              ২ টেবিল চামচ আমলকি গুঁড়ো বা আমলকির রস নিন। এর সাথে ৮-১০টি তুলসী পাতা পিষে রস নিন। এবার এই দুটি উপাদান একসাথে মিশিয়ে নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি পুরো চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এরপর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

রুক্ষ ও শুষ্ক চুলে পুষ্টি যোগাতে
               ৮-১০টি আমলকি নিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এখন আমলকিগুলোকে ব্লেন্ড করে রস তৈরি করুন। ভালো করে ছেঁকে রস আলাদা করুন। এরপর মাথার ত্বক ও পুরো চুলে লাগিয়ে ৩০-৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ৩০-৪০ মিনিট পর অল্প শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করুন। 
    

আমলকির রস

                          

চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করতে
                ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল নিয়ে হালকা গরম করে নিন। এর সাথে ১ টেবিল চামচ আমলকির রস নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এই মিশ্রণটি পুরো চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজ করে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পেতে সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করুন।

উকুনের সমস্যা দূর করতে
                 ২ টেবিল চামচ আমলকি গুঁড়ো ও ৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার মিশ্রণটি কুসুম গরম করে নিয়ে পুরো চুলে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১ দিন অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মাসে অন্তত ২ বার এটি ব্যবহার করুন। 

আমলকি



চুলের রঙ প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করতে 
                 পরিমাণমতো মেহেদি পাতা নিয়ে ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টের সাথে ২ টেবিল চামচ আমলকির রস মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি পুরো চুলে ভালো করে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে  শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

প্রাকৃতিক উপায়ে চুল মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে, চুলের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে, খুশকি দূর করতে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে উকুনের হাত থেকে মুক্তি পেতে আমলকির ব্যবহার অতুলনীয়। আপনারা আপনাদের সুবিধামতো যেকোনো একটি উপাদান যেমন- জবা, মেথি, মেহেদি অথবা আমলকি বেছে নিয়ে চুলের যত্ন শুরু করতে পারেন।    

আমাদের পরবর্তী ব্লগ আসছে চুলের যত্নে অ্যালোভেরার  উপকারিতা ও এর ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে।
                                            

                                                                                      ©Sanzu-Tanzu 
                               এই ব্লগ, ব্লগ পোস্ট বা ব্লগের কোন অংশ কপি, অনুলিপি অথবা পুনঃব্যবহার নিষিদ্ধ।

Comments

Popular posts from this blog

চুলের যত্নে মেথির ব্যবহার ও উপকারিতা